জেএসসি ও জেডিসি কৃতিদের প্রতি অভিনন্দন বার্তা


সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৫ - বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ১৯৭০

সুপ্রিয় ছোট্ট ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আশা করি অনেক ভাল আছো, বিশেষ করে জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষায় তোমাদের চমৎকার ফলাফল অর্জনের পরে। সারাবছরের পরিশ্রমের ফসল তোমাদের মুখকে হাশিখুশিতে রাঙিয়ে তুলেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুমানযোগ্য। আল্লাহর অশেষ রহমতে তোমাদের তীক্ষ্ণ মেধা এবং কঠোর সাধনা দ্বারা অর্জিত ফলাফলের জন্য তোমাদের প্রতি রইল আমাদের প্রানঢালা অভিনন্দন।

বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এদেশের প্রতিটি নাগরিক বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ একদিন সোনার বাংলাদেশে পরিনত হবেই, ইনশা-আল্লাহ। সেই সোনার দেশ গঠনের জন্য নিশ্চয়ই দক্ষ কারিগর প্রয়োজন। আগামীর সে কারিগর খুঁজতে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই যাদের দিকে চেয়ে থাকি তারা হচ্ছে আজকের কিশোর, তরুন। আর সে কিশোরদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যেই নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, মেলে ধরেছে তাদের ইচ্ছেডানাগুলো, তাদের উদ্দেশ্যেই আজ আমাদের এ চিঠি। তোমাদের পানে নিবেদন করছি আমাদের প্রত্যাশায় ভরপুর এ লিখাটি, যারা জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সমগ্র দেশের মানুষের আশাকে করেছো পূর্ণ। যারা শুধু নিজেরাই আনন্দিত হওনি, বরং পিতা-মাতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানীসহ সকল শুভাকাংখীর মুখকে করেছো উজ্জ্বল। যাদের কারনে সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ তাদের পরিশ্রমের ফসল পেয়েছেন, হয়েছেন আনন্দে উদ্বেল।

দেশ গড়ার প্রিয় কারিগরেরা,
দেশগঠনের জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তোমরা একটু চিন্তা করতে গেলেই অসীম সম্ভাবনা খুঁজে পাবে এখানে। একই সাথে কিছু প্রতিকূল পরিবেশ পরিস্থিতিও হয়তো তোমাকে চিন্তিত করে তুলবে, ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে। দেশের নানান সমস্যা দেখে তুমি যেন আবার ভড়কে যেওনা। কারন, হাজারো সমস্যাসঙ্কুল সমাজকে আলোকিত সমাজে পরিনত করার যে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছো তুমি, সেরকম কাজ নবীজি (সঃ) করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। বরং তিনি এর চেয়েও শতগুন সমস্যাসংকুল সমাজ তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোকিত সমাজে পরিনত করেছিলেন আল-কুরআনের পথ ধরে। তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। আজও আমরা যদি তাঁর দেখানো পথে চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের এ সমাজকেও একদিন আলোকিত সমাজে পরিনত করতে পারবই ইনশা-আল্লাহ।

প্রিয় ছোট্ট বন্ধুরা,
তোমরা সবাই অত্যন্ত মেধাবী। এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে তোমাদের হয়ে উঠতে হবে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক। এজন্য তোমাদের জীবন চালাতে হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে। পড়াশুনার পাশাপাশি তোমাদের নিয়মিত খেলাধুলাও করতে হবে। এছাড়াও তোমাদেরকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অনেক কিছু পড়তে হবে। জানতে হবে অনেক কিছু। ইতোমধ্যে তোমরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পেরেছো, বর্তমান বিশ্ব কত প্রতিযোগিতাপূর্ণ! সেজন্যই নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে তোমাদের জ্ঞান-সাধনা। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে নৈতিকতার বিকল্প নেই। এজন্য নৈতিকভাবে তোমাদের হতে হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। নিয়মিত কুরআন-হাদীস অধ্যয়ন করতে হবে এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। রাসূলের (সঃ) আদর্শকে তোমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জীবনের প্রকৃত সফলতার মাপকাঠি শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সফলতার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সূরা নুরের ৫২ নং আয়াতে বলেছেন, “আর সফলকাম তারাই যারা আল্লাহ ও রসূলের হুকুম মেনে চলে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানী করা থেকে দূরে থাকে।” তাই, আমাদেরকে শিক্ষাক্ষেত্রে সফল হওয়ার পাশাপাশি কুরআনে বর্নিত প্রকৃত সফলতার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে আজীবন।

পিতামাতা ছাড়াও অন্যান্য গুরুজনের প্রতি তোমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি তোমাদের আদর, স্নেহ ও ভালবাসা তোমাদেরকে চারিত্রিক সৌন্দর্যের শিখরে পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে নিশ্চয়ই। যা বড় হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বলব, ব্যক্তি হিসেবে তোমাদেরকে হতে হবে সৎ, নীতিবান, পরিশ্রমী, দক্ষ, বিনয়ী এবং দেশপ্রেমিক। ইনশা-আল্লাহ, তোমরা একদিন আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করবে। তোমাদের সে প্রত্যাশিত জীবন গঠনে ইনশা-আল্লাহ ছাত্রশিবির তোমাদের সাথে থাকবে- প্রয়োজনীয় সাহচার্য, সহযোগিতা আর দো’আসহ। তোমাদের জন্য রইল আমাদের অনেক অনেক দো’আ এবং শুভ কামনা।
প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, উন্নতি ও শান্তির জন্য তোমাদের কাছে রইল দো’আর আহবান। একই সাথে তোমাদের মোনাযাতে ছাত্রশিবিরের জন্য দো’আ করতে ভুলনা যেন। আল্লাহ হাফেয।

শুভেচ্ছান্তে,

আবদুল জব্বার
কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির