অন্যায়ের প্রতিরোধ ঈমানের দাবি

“হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের সামনে যখন ইসলামবিরোধী কাজ হতে দেখবে তখন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। যদি এতে অক্ষম হও তবে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ জানাবে। যদি তাতে অক্ষম হও তবে অন্তর দিয়ে তাকে ঘৃণা করবে, তবে এটি দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক।” (সহীহ মুসলিম)

পরকালের জবাবদিহী

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা:) নবী করীম (সা:) থেকে বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদম ও স্ব স্থান হতে নড়তে দেওয়া হবে না। ১) তার জীবন কাল কি ভাবে অতিবাহিত করেছে, ২) যৌবনের সময়টা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৩) ধন সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছে, ৪) তা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৫) সে দ্বীনের যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে সেই অনুযায়ী আমল করেছে কিনা।

রমজানের উপকারিতা

“হজরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবীয়ে কারিম (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের সাথে রমজান শরীফে ‘সিয়ামুন্নাহার’ পালন করবে তার অতীত অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের সাথে রমজান শরীফে ‘কিয়ামুল্লাইল’ পালন করবে তারও অতীত জীবনের গুনাহসমূহ মার্জনা করে দেয়া হবে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি কদরের রজনীতে দণ্ডায়মান থাকবে তারও পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ প্রমার্জন করা হবে।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তায়ালা তার আরশের ছায়া দান করবেন

হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সা:) বলেছেন: সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তায়ালা (কিয়ামতের দিন) তার আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। সেদিন আরশের ছায়া ছাড়া আর অন্য কোন ছায়া থাকবে না। ১. ন্যায় পরায়ন নেতা। ২. ঐ যুবক যে তার যৌবন কাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন। ৩. এমন (মুসলিম) ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লটকানো থাকে, একবার মসজিদ থেকে বের হলে পুনরায় প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ব্যাকুল থাকে। ৪. এমন দু’ব্যক্তি যারা কেবল আল্লাহর মহব্বতে পরস্পর মিলিত হয় এবং পৃথ হয়। ৫. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহর ভয়ে অশ্র“ ফেলে। ৬. যে ব্যক্তিকে কোন সম্ভ্রান্ত বংশের সুন্দরী রমনী ব্যভিচাওে লিপ্ত হওয়ার আহবান জানায় আর ঐ ব্যক্তি শুধু আল্লার ভয়েই বিরত থাকে। ৭. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে তার ডান হাত কি দান করলো বাম হাতও জানলো না। (বুখারী-মুসলিম)